‘কোটি টাকার অলিম্পিয়াড ব্যবসা...’

‘কোটি টাকার অলিম্পিয়াড ব্যবসা...’

বাণিজ্যিক অলিম্পিয়াডের
পদক ও শংসাপত্র
কাজলকান্তি কর্মকার: লেখাটি সৌরভ দত্ত’র টাইমলাইন থেকে নেওয়া । এটা অনেক দিন আগেই ফেসবুকের আমার ফেসবুক টাইম লাইনে পোস্ট করা হয়েছিল। সেটাই আবার কপি করে এখানে পোস্ট করলাম।  বহু নামী বিদ্যালয় এই ধরনের বাণিজ্যিক অলিম্পিয়াড করাচ্ছে। যার কোনও ভবিষ্যত নেই। যেখানে প্রশ্নের ধরন থাকে এমসিকিউ (MCQ) এবং পুরস্কার হিসেবে স্কুলে স্কুলে সোনালি, রূপালি পদক দেওয়া হয়।  ২০১৯ সালের গোড়ার দিকে হুগলির একটি ছাত্রকে নিয়েও এভাবে মাতামাতি হয়েছিল। তার ছবিটিও দিলাম। কিন্তুু আমি যেটুকু জানি, ম্যাথ অলিম্পিয়াড বলতে যেটা বোঝায় সেটার নাম ‘Indian National Mathematical Olympiad’. ওই পরীক্ষাটি সংগঠিত করায় National Board for Higher Mathematics (Department of Atomic Energy, Government of India) দপ্তর। আর এই অলিম্পিয়াড কৃতীদের সুন্দর একটা
ইন্ডিয়া ন্যাশনাল ম্যাথমেটিক্যাল
 অলিম্পিয়াডের সার্টিফিকেট
ভবিষ্যতের পথ খুলে যায়। .তাই কোনও মেধাবী ছাত্রছাত্রী গণিত, রসায়ন, পদার্থ বিদ্যা —যেই অলিম্পিয়াডেই বসতে চাক না কেন তারা যেন বসার আগে সঠিক ভাবে যাচাই করে বসে। কারণ, জেনুইন অলিম্পিয়াডের প্রশ্নের ধরণ এমসিকিউ (MCQ)হয় না। অত্যন্ত কঠিন এই পরীক্ষাটির বিস্তারিত উত্তর লিখতে হয় এবং কয়েক ধাপে প্রায় ছ’মাস ধরে পরীক্ষাটি চলে।

২০১৯ সালের আগস্ট মাসে সৌরভ দত্ত নামে এক শিক্ষক  সোশ্যাল মিডিয়ায়  ‘বাণিজ্যিক অলিম্পিয়াড’  সম্বন্ধে বিস্তারিত লিখেছেন। তাই সে নিয়ে আমি আর কিছু লিখলাম না। আমি তাঁর লেখাটি হুবহু কপি করে দিলাম। আশাকরি, সৌরভবাবুর লেখা পড়ে মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা অলিম্পিয়াড নিয়ে সতর্ক এবং সচেতন হবে। 
♦সৌরভ দত্ত: বাঙালি মেয়ের নাসা যাওয়ার গুজব; শিক্ষার নামে কয়েকশ কোটি টাকার অলিম্পিয়াড ব্যবসা। ব্যবসা করতে গেলে নতুন নতুন পরিকল্পনা চাই। আর সেটা যদি হয় স্কুলের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে; তাহলে তো আর কথাই নেই। নিজের ছেলে মেয়ের শিক্ষা ও অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকা নিয়ে সব বাবা-মা-ই সর্বদা উৎকণ্ঠিত। আর বাবা-মায়ের সেই আবেগকে হাতিয়ার করেই ভারত জুড়ে কয়েকশো কোটি টাকার ব্যবসা ফেঁদেছে সিলভার জোন পাবলিশার্স।
আর তার মধ্যে; “নাসা যাওয়ার ডাক পেল পুরুলিয়ার কিশোরী”; এইধরনের কোনও ভুয়ো খবর যদি বাজারে ছাড়া যায়; তাহলে তো সোনায় সোহাগা। “নাসা যাওয়ার ডাক পেল পুরুলিয়ার কিশোরী”। কয়েকদিন আগেই সব বাংলা সংবাদমাধ্যমে; বড়বড় করে নিউউ হয়। বড় হয়ে সে মহাকাশে যেতে চায়; আর তার আগেই; পুরুলিয়া শহরের কিশোরী অভিনন্দা ঘোষের হাতে যেন চাঁদ এসে হাজির। দিল্লির একটি বেসরকারি সংস্থা আয়োজিত; বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে সফল হয়ে সুযোগ মিলেছে; ‘নাসা’-য় পাড়ি দেওয়ার।
খবরটি পড়ে পুরুলিয়া সহ; গোটা রাজ্যের বহু মানুষ উল্লসিত। হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঘটনাটি কি আদৌ সত্য বা কত টুকু সত্য নিহিত আছে? বিষয়টি নিয়ে পুরুলিয়া যুক্তিবাদী সমিতির এক সম্পাদক এবং এক সাংবাদিক; সত্য উতঘাটনের চেষ্টা করেন। International Science Olympiad নামক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা; কিছু বিষয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে; এবং তা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত হয়।
নাসার এক কর্মকর্তাকে মেল করলে উত্তরে নাসা জানায়; “NASA does not sponsor and is not associated with the organization (Silver Zone) that you refer to in your message”। তবে তারা আরও জানায়,”However, the general public is welcome to visit and tour many NASA installations”।  ...আসলে গোটা বিশ্বের মত; ভারতের যে কোন স্কুলই তাদের ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে; নাসাতে যেতেই পারে। আগে থেকে স্কুলের নাম দিয়ে অনুমতি নিয়ে রাখলেই হল। আর এটাকেই নিজেদের প্রচারের অঙ্গ করে; সাধারণ মানুষকে বোকা বানাচ্ছে সিলভার জোন বই পাবলিশার্স।
সিলভারজোন অলিম্পিয়াডের পুরষ্কার
হাতে হুগলির সেই ছাত্রটি
Siver Zone তাদের বই বিক্রির এক বিরাট ব্যবসা ফেঁদেছে; এবং নানাভাবে মানুষকে বোকা বানাচ্ছে। এবং দেশ ও রাজ্যের কিছু ইংলিশ মাধ্যম স্কুল; তাদের বাজারদর আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। কারণ ওই সব স্কুল ব্যবসার এক একটা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ দুষছেন সংবাদমাধ্যমকেও। খবরের সত্যতা যাচাই না করেই; বাংলার সংবাদ মাধ্যম দিল ‘নাসার ডাক’ গল্প।
এবার আসা যাক আসল তথ্যে। Silver Zone এর International Olympiad ১০ টি বিষয়ে হয়। সায়েন্স, ম্যাথস, জিকে, ইংলিশ, কম্পিউটার সায়েন্স সহ মোট ১০টি বিষয়ে। পড়তে হবে তাদেরই বই। নিচু ক্লাসের একটি একটি বিষয়ে বইয়ের দাম; মোটামুটি ৩৫০ টাকা দিয়ে শুরু। আর একটি বিষয়ে পরীক্ষা দিতে গেলে দিতে হবে ১৫০ টাকা পরীক্ষা ফি। অর্থাৎ একটি সাবজেক্টে পরীক্ষা দিলে; একজন ক্লাস থ্রির ছাত্রের খরচ (বই ৩৫০ টাকা + ফি ১৫০ টাকা) মোট ৫০০ টাকা। সাধারণত সকলেই ৩-৪ টি বিষয়ে পরীক্ষা দেয়। কারণ এটা এখন বাবা-মা দের প্রেস্টিজ ইস্যু। “তোমার ছেলে International Olympiad দিয়েছে? আমার ছেলে গতবার সায়েন্সে রুপো পেয়েছে”। সবচেয়ে কম যদি ধরি; একটি ছাত্র বা ছাত্রী যদি ২টি সাবজেক্টে পরীক্ষা দেয়; তাহলে তার খরচা ২টি বই ৩৫০ টাকা করে ৭০০ টাকা। আর ২টি বিষয়ে এন্ট্রি ফি ১৫০ টাকা করে ৩০০ টাকা। অর্থাৎ সবচেয়ে নিচু ক্লাসের; একজন ছাত্র বা ছাত্রীর মাথাপিছু খরচ ১০০০ টাকা।
এবছর (২০১৯) পরীক্ষা দিচ্ছে ১৮ লক্ষ্ ছেলে মেয়ে। সবচেয়ে নিচু ক্লাসের বই ও সবচেয়ে কম ২টি সাবজেক্টে পরীক্ষা ধরে; সিলভার জোনের ইনকাম ১৮০ কোটি টাকা। বড় ক্লাসের বইয়ের খরচা আরও বেশি বেশি। আর অর্ধেক ছাত্র ছাত্রী যদি ৪টি সাবজেক্টে পরীক্ষা দেয়; তাহলে এই ইনকাম বেড়ে দাঁড়াবে; আরও ২০০ কোটির বেশি। অর্থাৎ প্রতি বছর এই International Olympiad এর নাম করে প্রায় ৩০০-৪০০ কোটি টাকা আয় করে সিলভার জোন। পাশের লিঙ্কটিতেও ক্লিক করে দেখতে পারেন— https://www.thenewsbangla.com 
(সংগৃহীত)
💬কাজলকান্তি কর্মকার || রাজ্যের প্রথম শ্রেণীর একটি বাংলা দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক
ঘাটাল || পশ্চিম মেদিনীপুর
M&W: 9933066200
eMail: ghatal1947@gmail.com
www.myghatal.com

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post
close