উপহারের চাপ

উপহারের চাপ
•ঘটনা এক:—
ছোট্ট দুই ভাইবোন মামার বাড়িতে এসেছে মামাতো দিদির বিয়েতে। মামিদের চোখ চাওয়া-চাওয়ির কারণটা তারা বুঝতে পারল যখন এক মাসি বলেই ফেলল, ‘তোদের বাড়ি থেকে কী লৌকিকতা পাঠিয়েছে দে এবার!’ 
•ঘটনা দুই:— 
বিয়ের উপহার খুলতে বসে চক্ষু ছানাবড়া দম্পতির। সবই যে সুন্দর ঢাউস প্যাকেটে ভরা কমদামী কাঁচের বাসন! বলাই বাহুল্য যারা দিয়েছেন তাদের ছাপান্ন পুরুষের ভাগ্যেও ‘অভ্যর্থনা’ জুটল।
ঘটনা তিন:—

বিশিষ্ট সামাজিক ব্যক্তিত্ব আমন্ত্রণ পেয়েছেন অন্নপ্রাশনে। তিনি গিফট নিতে এবং দিতে পছন্দ করেন না। বাড়ির লোকজন সোজা নিয়ে গেলেন বাচ্চাটির কাছে। আমন্ত্রিত সেই অতিথি বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ না-করেই আলতো ছুঁয়ে দিলেন বাচ্চাটির চিবুক, ললাটে চুম্বন এঁকে ভোজ খেয়ে বাড়ি ফিরলেন। তারপর থেকে গিফট না পেয়ে কথা বন্ধ এবং সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন বাচ্চাটির বাবা মা। 
সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যখনই তাদের কোনও আত্মীয় বা পরিচিতদের বিয়েবাড়ি, অন্নপ্রাশন, শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের নেমন্ত্রণ আসে তখনই সেই পরিবার প্রধানের মাথায় হাত পড়ে যায়। লৌকিকতার দায় মেটাতে কখনও টাকা ধার করতে হয়। ছেলের টিউশনের টাকা বাকী রাখতে হয়। কিম্বা ওষুধের খরচ কমাতে হয়, মাসিক রেকারিং জমা বন্ধ রাখতে হয়। যখন লৌকিকতার জন্য উপহার কেনা হয় বিশাল একটা দীর্ঘশ্বাস মেশানো থাকে সেই উপহারে। সেই সমস্ত দীর্ঘশ্বাস মেশানো উপহার নিয়েই আত্মীয় পরিজন বাড়ি যেতে হয়। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, উপহার দেওয়ার বিষয়টি এড়াতে অনেকে অনুষ্ঠান বাড়ি এড়িয়েও চলেন।
ওই দীর্ঘশ্বাস মেশানো উপহার পরিজনদের শুভকাজে নেওয়াটার প্রয়োজন সত্যি আছে কী?
সত্যিই ভাবা যায় না লাখ লাখ টাকা খরচ করে যে পরিবার একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কেন তারা সামান্য কিছু উপহারের জন্যে মুখিয়ে থাকে! এও তো প্রকারান্তরে ভিক্ষাবৃত্তি! যারা এখনও উপহার দিতে-নিতে অভ্যস্থ তারা জানেন নিতে ভালো লাগলেও দিতে কেমন লাগে! তাই আগে নিজে নেওয়া বন্ধ করুন, তবেই সাবলীল ভাবে খালি হাতে অন্যের অনুষ্ঠানে যেতে পারবেন। পারলে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। দীর্ঘশ্বাস মিশ্রিত বা অনিচ্ছার উপহার দেওয়া ও নেওয়া অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার।



💬কাজলকান্তি কর্মকার || রাজ্যের প্রথম শ্রেণীর একটি বাংলা দৈনিক সংবাদপত্রের সাংবাদিক
ঘাটাল || পশ্চিম মেদিনীপুর
M&W: 9933066200
eMail: ghatal1947@gmail.com
FB:  https://www.facebook.com/kajalkanti.karmakar

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post
close