ঘাটালের করোনা: ‘শুনলাম সবই, সমাধান করাটাও জরুরি, কিন্তু আমরা অসহায়’

ঘাটালের করোনা: ‘শুনলাম সবই, সমাধান করাটাও জরুরি,  কিন্তু আমরা  অসহায়’
কাজলকান্তি কর্মকার(৩ জুন ২০২০): ঘাটাল মহকুমায় করোনার পরীক্ষা, চিকিৎসা ক্রমশ অনিশ্চিৎ হয়ে পড়ছে।  আগামী দিনে কী হবে বলা মুশকিল!
• রিপোর্ট প্রক্রিয়া: ঘাটাল  মহকুমা হাসপাতালে   ১১মে  থেকে ২৬ মে পর্যন্ত মোট ১৩০৫ জনের  লালা রস সংগৃহীত হয়েছিল। ১ জুন  পর্যন্ত ৭৭৪ জনের রিপোর্ট  এসেছে।  ওই  রিপোর্টের  ভিত্তিতেই জানা গিয়েছিল মহকুমায় ১৩ জন সংক্রমিত।  বাকি    ৫৩১ জনের  রিপোর্ট  এখনও আসেনি। ২৭ মে থেকে লালা রস  সংগ্রহ করা বন্ধ রয়েছে।(যদিও আজ  থেকে শুরু হওয়ার কথা  আছে)।  এর মধ্যে বাইরের রাজ্য থেকে  কয়েক হাজার মানুষ  এসেছেন, কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তাঁদের কবে লালা রস পরীক্ষা করা হবে এবং কবে রিপোর্ট আসবে  তার উত্তর কেউ ই দিতে পারছেন না।
•কোয়ারেন্টাইন:   ১৭মে’র  পর যাঁদের  এখনও রিপোর্ট আসেনি তাঁরা কোয়ারেন্টাইনে   ১৪ দিন থাকার  পর বাড়িতে চলে গিয়েছেন। বাড়ির লোকেদের সঙ্গে মিশছেন। অবৈজ্ঞানিক  ও অস্বাস্থ্যকর  পদ্ধতিতে   কোয়ারেন্টাইন  সেন্টারগুলি চলছে।  সেন্টারে নতুন  এবং পুরানো সবাইকে এক সঙ্গে রাখা হচ্ছে। মানে, যিনি ১০-১২দিন কাটিয়ে   কোনও উপসর্গ ছাড়াই বাড়ি ফেরার  জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন সেই সময় নতুন   একজন  (হয়তো) সংক্রমণ নিয়ে তার সঙ্গেই ওই সেন্টারে  থাকছেন। ফলে  যিনি বাড়ি ফিরবেন  তিনি হয়তো করোনা সংক্রমণ নিয়েই ফিরবেন।  এটা  একটা বড় সমস্যা। যে জন্য কোয়ারেন্টাইন সেন্টার , সেই নিয়মই  সেন্টারগুলিতে মানা হয়নি বলে অভিযোগ। সেন্টারে   বাথরুম, পরিবেশ সবই  অস্বাস্থ্যকর। পরিষ্কারের কোনও প্রশ্নই নেই। নিজেদের  খাবার নিজেদেরকেই   ব্যবস্থা করে নিতে হচ্ছে।
•চিকিৎসা: ১৬-১৭দিন আগের   রিপোর্টের ভিত্তিতে  মাঝ রাতে  বাড়িতে হানা দিয়ে   ‘অপরাধীদের মতো’ করে  করোনা সংক্রমিতদের ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এমনটা দেখানো হচ্ছে, গিয়েই চিকিৎসা শুরু করা হবে। কিন্তু বাস্তব  চিত্র  তার বিপরীত।  যাঁদের ১ জুন বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল  তাঁদের এখনও  লালারস পরীক্ষাই করা হয়নি বলে বাড়ির লোকেদের অভিযোগ।   তাঁদের কবে লালারস পরীক্ষা করা  হবে, কবে রিপোর্ট আসবে আর্ কবে বাড়ি  ছাড়া হবে সবটাই অন্ধকারে।
•প্রশাসন:   স্থানীয় প্রশাসনও অসহায়। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য এক একটি ব্লককে মাত্র  আড়াই লক্ষটাকা করে দেওয়া হয়েছিল। সেই টাকা দিয়েই  কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের বেড, সবার  দিনে চারবার করে খাওয়ার  ব্যবস্থা, পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা  করতে বলা হয়েছে।  এটা কি বাস্তবে সম্ভব?   আর  একই কারণেই (টাকার অভাব) বোধহয় চিকিৎসাও হচ্ছে না বলে মনে হয়।
তাই আমরা সাংবাদিকরা যখন   এই সমস্ত  সমস্যার কথা প্রশাসনকে জানাতে যাই  আধিকারিকরা  চুপি চুপি বলেন, ‘শুনলাম সবই। সমাধান করাটাও জরুরি,  কিন্তু আমরা  অসহায়’
💬কাজলকান্তি কর্মকার || রাজ্যের প্রথম শ্রেণীর একটি বাংলা দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক
ঘাটাল || পশ্চিম মেদিনীপুর
M&W: 9933066200
eMail: ghatal1947@gmail.com
www.myghatal.com

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post
close