প্রলোভনের ফাঁদে আমাদের মহকুমার কিশোরী- যুবতীরা


কাজলকান্তি কর্মকার সাংবাদিক(M&W)9933066200• তিনটি মেয়েকে উদ্ধার করে আজ ৬ নভেম্বর  (২০১৯)ঘাটাল আদালতে তোলা হয়েছিল। তাদের মধ্যে দুজন নাবালিকা। একজন যুবতী। দু’ জন কিশোরীর বাড়ি চন্দ্রকোণা থানার বিভিন্ন এলাকায়। যুবতীর বাড়ি ক্ষীরপাই শহরে। ওটাও অবশ্য চন্দ্রকোণা থানা এলাকায়। ওই যুবতীর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার কাহিনীটি বেশ আকর্ষণীয়। ফেসবুকে এক বিহারের যুবকের সঙ্গে আলাপ। সে নাকি বিশাল বড় সঙ্গীত শিল্পী। ওই যুবতীকে জীবন সঙ্গী করার পর ওই যুবতীকে সঙ্গীত জগতে সুপ্রতিষ্ঠি➧ত করে দেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়। যুবতী গিলে নেয় সেই প্রস্তাব। আর সেই প্রস্তাবেই রাজি হয়ে ক্ষীরপাইয়ের ওই যুবতী বাড়ি থেকে তিন দিন আগে চিঠি লিখে পালিয়ে যায়। কথা ছিল দুজনের দমদম এয়ারপোর্টে দেখা হবে। সেখান থেকে ফ্লাইটে সোজা বলিউড। বলিউডে রাণু মণ্ডলের ‘ভাগ্যের সিঁড়ি’ ধার করে সুগায়িকা। প্রচুর টাকার মালিক। পরে গাড়ি হাঁকিয়ে বাবার বাড়িতে এসে বলবে, দেখ বাবা কী সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমি! তোমাদের বলে গেলে কি রাজি হতে?
কিন্তু, সেই যুবক দমদমে আসেনি। মজা নেওয়ার জন্য ইচ্ছে করে আসেনি, না কি অন্য কোনও কারণে আসতে পারেনি সেটা কারোর কাছেই পরিষ্কার নয়। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে যুবতী অসহায় বোধ করে হাওড়া রেলস্টেশনে ফিরে আসে। যেহেতু যুবতীর পরিবার থানায় হারিয়ে যাওয়ার ডায়েরি করেছিল তাই সেখানে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আইন-অনুযায়ী আজ আদালতে তোলে। বাকী দুই কিশোরীর তো গায়িকা কেন, কোনও কিছুরই ইচ্ছে ছিল না। শুধু সঙ্গীর টানে বাড়ি থেকে উধাও হয়েছিল। তাদেরকেও আজ আদালতে তোলা হয়। যে যার মায়েদের হেফাজতে রাখা হয়।
➧➧এগুলো প্রতীকী উদাহরণ মাত্র। আজ সারা বাংলার সঙ্গে ঘাটাল মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় কম বয়সী মেয়েদের বেশিরভাগই হাতে মোবাইল পেয়ে শুধু মাত্র সঙ্গী খোঁজায় ব্যস্ত থাকে।  এদের মধ্যে হাতে হাতে সে অর্থে কোনও কাজ-কর্ম-দায়িত্ব না থাকা কিছু গৃহবধূও রয়েছেন। চোখা চোখা কথা বলতে পারা একটা পুরুষ হলেই হল। ক্ষণিকের মোহে সব তুচ্ছতাচ্ছিল্য জ্ঞান করে অবলীলায় অচেনা প্রলোভনে পা দিতে বিন্দুমাত্র ভাবে না মেয়েগুলো। মা-বাবা-পরিবারের কথা না হয় ছেড়ে দেওয়াই গেল। মেয়েটিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার পর কী করবে, কিছু দিন পরে ‘সুদ-সহ’ ফেরতের ব্যবস্থা করবে কিনা, ভবিষ্যৎ কী— সেটা দেখার ন্যূনতম প্রয়োজন মনে করে না। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, কর্মব্যস্ত কিশোরী, যুবতী বা গৃহবধূরা সাধারণ এই ধরনের আবেগে ভাসার কথা ভাবতে পারে  না, সময়ও পায় না। মূলত যারা সার দিন শুধুমাত্র নিজেকে নিয়ে ব্যক্ত থাকে, ঘষা ফোন আর ড্রেসিং টেবিলের সঙ্গে সম্পর্ক তাদেরকেই এই ধরনের ফাঁদে পড়তে বেশি দেখা যায়।
➧➧পুরুষের একাংশ তো চিরকালের ধান্দাবাজ! সুযোগ পেলে সেই সুযোগ একেবারেই হাতছাড়া করে না। চাকরির পরীক্ষার মতো একের পর এক জায়গায় ‘অ্যাপ্লিকেশন’ করে রাখে। তাছাড়া একটা যুবক সে যে কোনও পরিবেশ থেকেই তাঁর সঙ্গী নির্বাচন করে আনতে পারে। আনতে পারে মানে, সে জানে তার বাড়ির পরিবেশ কী, কীভাবে সে তার সঙ্গীনি আগামী দিনে রাখবে সেটা তার কাছে পরিষ্কার। যুবকটি তার ভবিষ্যৎ সম্বন্ধেও ওয়াকিবহাল। যে তার কাছে সঙ্গীনি হিসেবে আসবে, তাকে সেই যুবকের স্ট্যাটাস অনুযায়ীই মানিয়ে নিতে হবে। কিন্তু একজন কিশোরী বা যুবতী? যে আবেগ তাড়িত হয়ে ‘সু-পাত্র’ পছন্দ না করতে পারে তাহলে তাকে চোখের জলে-নাকের জলে সারা জীবন কাটাতে হয়। কিম্বা হাঁটতে হয় ডিভোর্সের রাস্তায়। আজকে আকছার দেখা যায়, একজন সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর শিক্ষিতা মেয়ে সে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পছন্দ করে ফেলল একটি স্বল্প আয়ের অশিক্ষিত শ্রমিককে। আবেগ কাটলেই তাঁদের মধ্যে অশান্তি শুরু হবেই। চেক বাউন্স হয়ে ফিরে যাওয়ার চান্সই বেশি। কিন্তু ওই যুবতী যদি পরিবারের প্রতি আস্থা রাখত তাহলে তার এবং তার পরিবার উভয়েরই মর্যাদাই বজায় থাকত।
➧➧তাহলে কি বাবা-মা-পরিবারের মতে সঙ্গী নির্বাচন করলে কী পরবর্তী জীবনে সমস্যা হয় না? অবশ্যই, সেক্ষেত্রেও হতে পারে। তবে সেখানে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমতা মোটামুটি ব্যালান্স রেখে করা হয় বলে সম্ভাবনাটা অনেক কম।
➧➧তাহলে কি কিশোরী বা যুবতীদের নিজে থেকে সঙ্গী নির্বাচন করা নিষিদ্ধ? তাও না। সঙ্গী হিসেবে কাউকে বাছার আগে জৈবিক ও মানসিক আবেগটাকে কম গুরুত্ব দিলেই তারাও সঠিক সঙ্গী বেছে নিতে পারে।
[ছবিটি প্রতীকী। ঘাটাল মহকুমার কোনও যুবতীর নয়। ইন্টারনেট থেকে নেওয়া হয়েছে।]


💬কাজলকান্তি কর্মকার || রাজ্যের প্রথম শ্রেণীর একটি বাংলা দৈনিক সংবাদপত্রের সাংবাদিক
ঘাটাল || পশ্চিম মেদিনীপুর
M&W: 9933066200
eMail: ghatal1947@gmail.com

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post
close